photo anigif_zps14jgsh76.gif

Wednesday, November 22, 2017

বিভিন্ন প্রকার আমাশয়ের (Dysentery) - কারণ, লক্ষণ ও কার্যকর হোমিও চিকিৎসা



যদি প্রশ্ন করা হয় আমাশয় রোগটি কি এই প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষেপে বলা যায় যে - উদরাময় ও তার সঙ্গে পেটের বেদনাসহ অল্প অল্প মল, রক্ত, আম বা আম রক্ত ও পুঁজ বার বার বের হতে থাকলেই তাকে আমাশা বলা হয়। আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে যে আমাশয় একটি রোগ নয়, ইহা দুটি বিশেষ রোগ এবং সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের । দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের রোগ জীবানু দ্বারা এই ২ প্রকার আমাশয়ের সৃষ্টি হয় । তবে এর কারণ এবং জীবানু ভিন্ন হলেও এই দুটির লক্ষণগত সাদৃশ্য আছে বলে আমরা ইহাকে আমাশয় বলে এক নামেই অভিহিত করে থাকি। ইহা সত্বেও এই দু'জাতীয় রোগের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে এবং চিকিত্সা পদ্ধতিও আলাদা ধরনের। এই ২ ধরনের আমাশয় হচ্ছে -
  • এমিবিক আমাশয় (Amoebic Dysentery)
  • বাসিলারী (Bacillary Dysentery)
এমিবা নামক এক জাতীয় জীবানু থেকে এমিবিক আমাশয় হয়ে থাকে। এই দুটি যখন পৃথক রোগ, তাই পৃথক পৃথক ভাবে এদের আলোচনা করাই ভাল ।
এমেবিক আমাশয় (Amoebic Dysentery) :- 
Entamoeba histolytica নামক এক প্রকার এককোষ বিশিষ্ট protozoa group-এর জীবাণু দ্বারা এই রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে । এই রোগের প্রকাশ হঠাৎ অথবা ধীরে ধীরে হতে পারে । এই সকল Amoebia খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গে শরীরের ভিতরে প্রবেশ লাভ করে এবং বৃহত অন্ত্র (Colitis) মল দ্বারের কিছু ওপর পর্যন্ত এবং ক্ষুদ্র অন্ত্রের প্রদাহ সৃষ্টি করে । এই প্রদাহের ফলে বার বার মল ত্যাগ করতে হয় । পায়খানার পূর্বে পেটে ব্যথা অনোভব করে । মল ত্যাগের পর আবার মল ত্যাগের ইছা হয়। মলে আম ও রক্ত মিশ্রিত থাকেঅনেক সময় এই রোগের উপসর্গ সরূপ যকৃতে স্ফোটক দেখা দেয় । 

এই রোগের সৃষ্টিকারী এককোষ জাতীয় জীবানু একবার পেটে প্রবেশ লাভ করলে অতি তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি লাভ করে এবং বৃহৎ অন্ত্র ও ক্ষুদ্র অন্ত্র ইহাদের আশ্রয় স্থল হয় । ইহার ফলে সেখানে প্রদাহের সৃষ্টি হয় । ইহার ফলে বৃহত অন্ত্রে প্রদাহ, ঘা ক্ষত প্রভৃতির সৃষ্টি হয় যাকে আমরা Intestinal ulcer নামে অভিহিত করি । যদি বৃহৎ অন্ত্রে এই রূপ অবস্থার সৃষ্টি হয় তবে Colitis বলে । আবার যদি দুটি অন্ত্রে এইরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয় তবে entero colitis বলে । এই প্রদাহের ফলে বার বার কুন্থন ভাব এবং মল ত্যাগের ইছা জাগে । লিভার প্রদাহের (Hepatitis) এবং লিভারের ফোড়া (Liver abcess) নামক দুটি উপসর্গ ইহার ফলেই সৃষ্টি হয়ে থাকে । Amoebia জীবানুর যে কোষ থাকে তা পেটে গিয়ে রোগ সৃষ্টি করে । এই কোষ গুলো অতি দ্রুত অনেক Amoeba এর জন্ম দেয় এবং বংশ বৃদ্ধি করে । Entamoeba histolitica নামক জীবানু যে কোষ থাকে তা পেটে গিয়ে রোগ সৃষ্টি করে । 

Entamoeba hystolitica নামক জীবানু এই রোগের মূল কারণ বলে প্রমানিত হয়েছে । অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুষিত পানীয়ের সঙ্গে ইহা শরীরে প্রবেশ লাভ করে । জীবানুর ডিম গুলো অনেক দিন বেচে থাকতে পারে । শুষ্ক আবহাওয়ায় ডিম গুলোর পক্ষে আদৌ ভালনা । জলের মধ্য ডিম গুলো প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত বেচে থাকতে পারে । এমোবিয়া রেনু খাদ্যবস্তুর সঙ্গে উদরে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বৃহৎ অন্ত্রে আসে , সেখানে এই জীবানু গুলো ধীরে ধীরে Mucus membrane-এ ঢুকে যায় । আর সেখান থেকে Lymphatic channels এর সাহায্য Mucus membrane এর মাংস পেশী ভেদ করে Sub-Mucosa- তে বাসস্থান তৈরে করে । অনেক সময় এই জীবানুগুলো Portal vein এর শাখা প্রশাখা এবং Mesenteric artery-র শাখা প্রশাখায় প্রবেশ লাভ করে এবং এই গুলো রক্ত প্রবাহের সঙ্গে বহিত হয়ে যকৃতের স্ফটকের কারণ হয়ে দাড়ায় ।

আমাশয়ের লক্ষণ :-লক্ষণনের তারতম্য দেখে এই লক্ষণ গুলোকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় -
  • উগ্র ধরনের (Acute type) 
  • দীর্ঘস্থায়ী ধরনের (Chronic type) 
  • অব্যক্ত ধরনের (latent type) 
  • মিশ্রিত ধরনের (mixtured type) 
আমাশয়ের Acute type :-
ইহা হঠাৎ আরম্ভ হয় । কয়েক দিন আগে থেকে মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্য ভাব দেখা দেয় এবং পরে হঠাৎ উদরাময় শুরু হয় । পেটের তলদেশে বেদনার অনুভূত হয়, নাভির চারদিকে ব্যথা ভাব এবং এই ব্যথা ভীষণ কষ্টদায়ক । পায়খানার সময় কুন্থন ও ব্যথা হয় । পায়খানার পর এই বেদনার ভাব সামান্য কমে , আবার পায়খানা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যথা হয়, অবস্থা এই ভাবে চলতে থাকে । পায়খানা দিনে ১০/১৫ বার পর্যন্ত হতে পারে, মলে দুর্গন্ধ এবং কখনো কখনো টক গন্ধ থাকে জিহ্বা ভিজা এবং মাঝে মাঝে ময়লা লেপাবৃত, কখনো কখনো বমি এবং বমি ভাব। জ্বর হতে পারে তা সামান্য। মাঝে মাঝে পেটে ভীষণ মোচড়ানো ব্যথা দেখা দেয় । কখনো কখনো Mucous-এর সঙ্গে সামান্য রক্ত দেখা দেয়। মলে পুজ বা পুজসেল থাকেনা।

আমাশয়ের Chronic type :- উগ্র আক্রমনের যথার্থ চিকিত্সা না হলে পরে ইহাই ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করে, ইহাতে অন্য কোন লক্ষণ থাকেনা , কেবল পায়খানার সাথে কুন্থন এবং আম পড়ে, রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে, রক্তহীনতা দেখা দেয় । মাঝে মাঝে হঠাৎ রোগ উদরাময় হয় এবং তত্সহ আম পড়ে বেশি কিছু খেয়ে হজম করতে পারেনা, অজীর্ণ দেখা দেয় । তখন এই জাতীয় রোগী রোগের বাহন (Carrier) হয় এবং তাদের মধ্য রোগ ছড়ায়। ইহাতে বৃহৎঅন্ত্রে এবং ক্ষুদ্র অন্ত্রে ক্ষত হয় এবং নানা উপসর্গ দেখা দেয় ।

আমাশয়ের Latent type :- এরূপ অবস্থা হতে হঠাৎ Liver abscess দেখা দেয় । এই অবস্থায় কোনো বাহিরের লক্ষণ থাকেনা এমন কি বুঝা যায় না যে রোগীর আমাশা আছে ।ইহারা সর্বদাই রোগের বহন হয়ে দাড়ায় ।

আমাশয়ের Mixtured type :- এই জাতীয় রোগীর মধ্যে Amoebic এর সঙ্গে Bacillary dysentry-র উপসর্গ মিশ্রিত থাকে অথবা Bacillary -র সঙ্গে Amoebic -এর লক্ষণ মিশ্রিত থাকে।

আমাশয়ের জটিল উপসর্গ :- আমাশয় যদি দীর্ঘ সময় অথবা অব্যক্ত ধরনের হয় তবে নানাবিধ জটিল উপসর্গ সৃষ্টি হতে পারে । উভয় অন্ত্রেই ক্ষত বা ঘায়ের সৃষ্টি হতে পারে । বুকে বা পিঠে ব্যথা দেখা দিতে পারে। অন্ত্রে ক্ষত হতে পারে এবং ধীরে ধীরে Intestinal ক্যান্সার হতে পারে । লিভার আক্রান্ত হয়ে হেপাটাইটিস হতে পারে । Liver Abcess হতে পারে । Pandhor, সন্নাস বা জন্ডিস হতে পারে ।

রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা :- উদরাময়, আমাশয়, কলেরা প্রথমে তিনটির মধ্য যে পার্থক্য আছে তা ভালো করেউপলব্ধি করতে হবে । আবার আমাশয়ের মধ্য কোনটি ? Amoebic না Bacillary তাও আবার বুঝতে হবে। সঠিক ভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারলে হোমিও চিকিৎসায় যেকোন জটিল আমাশয়কেই নির্মূল করা যায় । তবে আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে রোগের লক্ষণ, উপসর্গ ইত্যাদি দেখে রোগ নির্ণয় প্রায় অচল হয়ে আসছে, কারণ এখন আর অনেক হোমিও চিকিত্সকই ইহার উপর নির্ভর করতে চাননা । যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রোগীর মলমূত্র, রক্ত থুথু ইত্যাদি পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ের আশ্রয় নেন অনেক হোমিও ডাক্তার এবং বলতে গেলে এটাই এখনকার প্রচলিত পদ্ধতি । 

আমাশয় আক্রান্ত রোগীর মল অনুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা পরীক্ষা করলে যে জীবানুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় তার আকৃতি প্রকৃতি এবং কার্য পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ভাবে বলা যায় যে রোগী কি জাতীয় আমাশয় রোগে ভোগছে, যেহেতু মল পরীক্ষায় ধরা পড়বে যে মলে Amoebia জীবানু না Bacilli জীবানু আছে । তারপর সে অনুযায়ী যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে আমাশয় তার মূল থেকেই নির্মূল হয়ে যায়। কিন্তু তার জন্য অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হওয়া অতি জরুরি।
  সবার ¯^v¯’¨ ivwLe my¯’¨ GB g‡š¿ Dw¾weZ|
  Wvt ‡kL gvgybyi iwk`                
wWGPBGgGm. (weGPBwe) XvKv, weG, (Abvm©)GgG wWGgGm   KwjKvZv) | K¬vwmdvBW †¯úkvwj÷ Bb †nvwgIc¨vw_ GÛ Kbmvj‡U›U Aëvi‡bwUf †gwWwmb †MÖwWs Bb c¨v_jwR GÛ mvR©wi |
 ‡iwRt bs- (wRGm - 530) 25087( BwÛ) 17184
Av‡ivM¨ †nvwgI dv‡g©mx GÛ  cwjcvm I cvBjm wKIi †m›Uvi ‡‡                                                   ‡P¤^v‡i:  আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের cv‡k¦  রেলগেট,মুজিব সড়ক h‡kvi|            ‡ivMx ‡`Lvi w`b(kwb ,iwe, †mvg)
‡P¤^v‡i:  bZzb iv¯Ívi †gvo ‡`ŠjZcyi Lyjbv||‡ivMx ‡`Lvi w`b(g½j,eya,e„)
‡P¤^v‡i †ivMx †`Lvi mgqt
cÖwZw`b mKvj 9.30n‡Z `ycyi 2.00Uv ch©všÍ| weKvj 4.00‡_‡K ivZ 9.30wgwbU ch©všÍ| mvÿv‡Zi c~‡e ©†dvb K‡i Avmyb ‡gvevBj   bs 01915999568/01722557184|Email:Shk.mamun04@gmail.com